4th Street Bar Hive-Bar

Hive-Bar Powered by Hive beta-fdb5b5b

Community post

ত্রিভুজ

১.....
সুমন একদিন সকাল সকাল বের হলো নারায়ণগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ।। বাসে উঠবে উঠবে এমন অবস্থায় ফোন টা হাত থেকে কেও নিয়ে দৌড় দিল।।সুমনের বুঝতে বাকি রইল না যে মোবাইল খানা মাত্রই কেও ছিনতাই করল, তাও ছেলেটার পেছনে কিছুক্ষন দৌড়ে এক পলক ছিনতাইকারীর চেহারা দেখতে পেয়ে সুমন থেমে গেলো ।। সুমন কিছুক্ষন রাস্তার পাশে বসে চিন্তা করল কি করবে।। মানিব্যাগ খুলে দেখল ১৩০ টাকা আছে।। কি ভেবে বাসে উঠে পড়ল, সে নারায়ণগঞ্জ আজকে যাবেই।।

ব্রাদারস এপারেলস এর ফ্যাক্টরির সামনে এসে সুমন দেখলো রাজিব ভাই সিগারেট খাচ্ছে আর চোখ গরম করে সুমন কে ডাকছে।। " কি রে ব্যাটা তোরে দশটায় আসতে বললাম, তুই ১১টা বাজাইলি আবার সাথে ফোন অফ করে রাখসিশ।। আমার মান ইজ্জত খাইবি নাকি হালা", রাজিব ভাই বলল।। সুমন মাথা নিচু করে ফোন চুরি হবার কাহিনি শুনাইল।। রাজিব ভাই একটু মাথা ঠাণ্ডা হওয়ার পর নাস্তা খেতে বলল, সুমনের পেটে অনেক খিদে থাকা সত্যেও লজ্জায় মানা করল।

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ওসমান সাহেব আর এইচআর রাহুল সাহেব সুমন কে কিছুক্ষন দেখে তার সিভির দিকে চোখ বুলিয়ে নিলেন।। " Tell me about yourself and do you fit for the post? And why?? " ডিরেক্টর সাহেব জিগ্যেস করলেন।। সুমন মনে মনে ভাবলো সত্যি বলবে নাকি মিথ্যা।। রাহুল সাহেব প্রচন্ড ভালো অবসারভ করেন মানুষকে।। সুমন কে সেকেন্ডের ভিতর বলে দিলেন মিথ্যা না বলতে, যা সত্যি তাই বলতে।।
সুমন সামনে রাখা এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে গিলে বলা শুরু করল।।

রাজিব ভাই সুমন কে জিগ্যেস করলেন মোবাইল কেনার টাকা আছে কিনা নাহলে ধার দিবেন উনি।। সুমন মুচকি হাসি দিয়ে না করলো।। সুমন বিদায় নিল রাজিব ভাই থেকে।।

বাসে উঠে সুমনের ঘুম পেলো সে দুই একটা হামি দিয়ে জানালায় মাথা ঠেকে ঘুমিয়ে পড়লো।। কিছুক্ষন যেতেই সুমন এর ঘুম ভাংলো সুপারভাইজার ভাড়া চাইতে যখন ডাকলো। তখন সুমন ভাড়া দিয়ে দেখে পকেটে আর ৪০টাকা আছে।। বাসায় সুমনের টাকা পয়সা চাইতে খুব লজ্জা পায় তাও সে চায় কারণ সারাক্ষন বাসায় বসে থাকা সম্ভব না আর বাইরে বের হলেই খরচ।। সুমনের খুব বিরক্ত লাগা শুরু করল, মানিব্যাগ পকেটে রেখে পুরনো দিন গুলোর কথা মনে করতে থাকলো।।

সুমনের ছাত্র জীবন খুবই অস্থিতিশীল ছিল।।আজকে এখানে কালকে অইখানে।।আজকে এই বন্ধু কালকে অই বন্ধু।। এর মাঝে সুমন অনেক মানুষের প্রিয় বন্ধু, প্রিয় মানুষ ছিল। সুমন সবার বিপদে আপদে সবার আগে এগিয়ে আসত। চেষ্টা করত জীবন ছাড়া সব দিয়ে দেওয়ার।। এইসব চিন্তা করেই সুমন নিজের বিরক্তিকর সময়টায় হাসি খুজে পায়।।

২......
হাবিব ছোট বেলা থেকেই বদ মেজাজি, খুব কম ছেলে আছে বস্তিতে যে হাবিবের সাথে মেশে।। হাবিবকে ৪ বছর বয়সে আয়শা বেগম ভিক্ষা করার সময় রেলস্টেশনে দেখে, এক কোনায় ছোট্ট হাবিব ঠান্ডায় থর থর করে কাঁপছিল ।। অনেক্ষন ওর মা বাপ কে খুজেও লাভ হল না।। আয়েশা বেগম বুঝলেন হাবিব কে এখানে রেখে তারা চলে গেছে ।। এরপর থেকে হাবিব-ই আয়েশা বেগমের সব। হাবিবের দিনের অর্ধেক যায় তার পালক মায়ের সেবা করতে করতে বাকি সময় হোটেলে প্লেট গ্লাস পরিস্কার করে।।

আয়েশা বেগমকে গোসল করিয়ে জামা বদলে হাবিব বের হলো ।।অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটার সময় হঠাত এক সিএনজি হাবিব এর গা ঘেঁষে এসে ব্রেক করলো।। হাবিব ভড়কে গিয়ে মা****দ তরে খাইসি বলেই সিএনজির সামন গিয়ে গ্লাসে থাবা দিল।। সিএনজি ওয়ালা বের হয়ে হাবিব কে কষে এক চড় দিয়ে বলল কোনদিকে তাকাইয়া চলোস হারামজাদা আবার গালি চো**।। আজকে তোরে খাইসি।।ভীড় জমে গেল ৩০ সেকেন্ডের ভিতর।। কেও ভিডিও করছে কেও দূরে থেকে তামাশা দেখছে । এর ভিতর হাবিবের দুই বন্ধু এসে সিএনজি ওয়ালার গায়ে লাফিয়ে পড়ল।। কিছুক্ষনের ভিতরে সিএনজিও ভেংগে ফেললো হাবিব এন্ড ফ্রেন্ডস ।

হাবিবের সেদিন কাজে যেতে দেরী হয়ে গেলো।। ম্যানেজার ডেকে হাবিব কে ঝাড়ি দিয়ে বলল তোর ৩ দিনের বেতন নাই, যা কাম কর।।( হাবিবের তখনও মেজাজ ঠিক হয় নাই, সিএনজি ওয়ালার সাথে বেশী বেশী হয়ে গেছে ভেবে ভেবে হাবিব কাজে এসেছিল, একটু গিলটি ফিল করছিল সে) টেবিলে গ্লাস ছিল সেটা নিয়েই ছুড়ে মারলো ম্যানেজার এর মাথায় মা*****দ তোর **র চাকরি আমি করুম না বলেই বের হয়ে গেলো।।

একটা সিগারেট ধরায়ে হাবিব ভাবলো অনেক টাকা থাকলে সিএনজি চালক কে খুজে মাফ চেয়ে যা ক্ষতি হয়েছে সেটা দিয়ে আসতো হাতে।।'' ধুর এই মেজাজই একদিন আমার শনি ডাকবে " মনে মনে বলল হাবিব।। সিগারেট শেষ করে বাসায় গেলো, অনেক দিন পর খালি হাতে এসেছে বাসায়।।
হাবিব দেখলো আয়েশা বেগম মাটিতে পড়ে আছে অচেতন হয়ে।। তাড়াতাড়ি রিকশা নিয়ে হাস্পাতালে নিয়ে গেলো হাবিব।। হাসপাতালে ইমার্জেন্সিতে ডাক্তার চেকআপ করেই অপারেশনের জন্যে রেডি করতে বললেন।। তিনি হাবিব কে বললেন অপারেশন করতে হবে এখনই (বাংলা সিনেমাতে যেভাবে বলে আর কি) নাহলে বাঁচবেন না ইনি।। ২৫০০০ টাকা লাগবে শুনে হাবিব দৌড়ে বাসায় গেলো, ১২ হাজার টাকা জমানো আছে।। বাকিটা কিভাবে ম্যানেজ করবে ভাবতে ভাবতে আরেক দৌড়ে হাসপাতাল গেলো। টাকা জমা দিয়ে বাকিটা অপারেশন এর পরে দিবে বলে রাজি করাল কতৃপক্ষ কে।। সারারাত এই বন্ধু অই বন্ধু এই ভাই অই ভাইয়ের কাছে ৫০০/৭০০ টাকা করে ধার করে দেখলো অনেক টাকা বাকি এখনো।।

অনেক দিন পর হাবিব ফজরের নামাজ পড়ল মসজিদে, মোনাজাতে চুপ করে সিলিং এর দিকে চেয়ে থাকলো হাত উঁচিয়ে ।। মসজিদ থেকে বের হয়েই বাস সটপ এ গিয়ে দাড়িয়ে আছে।। দেখলো এক ছেলে অন্য মনস্ক হয়ে বাসের অপেক্ষা করছে, হাবিব গুটিগুটি পায়ে এগোলো বাসে ছেলেটি উঠবে আর হাবিব খপ করে মোবাইল টা সুমনের হাত থেকে নিয়ে দৌড় দিলো। চোখের পানি পড়ছে হাবিবের কিন্তু হাবিব দৌড়ানো থামাচ্ছে না।।

৩...
রাজন আর কনার ১৪ বছর হলো বিয়ের।। একজন একজনকে প্রচন্ড ভালোবাসে।। তাদের ১২বছরের একটা মাত্র মেয়ে সাইবা।। রাজন আর কনা সাইবা কে এত ভালোবাসে যে তারা চায় না তাদের নতুন কোন সন্তান হউক আর সাইবার প্রতি একটু হলেও তাদের আদর, মনযোগ কমে যাক।।

প্রতিদিন রাজন সাইবাকে আগে স্কুলে নামায়ে দেয় এরপর কনা কে হাসপাতালে নামিয়ে সিএনজি টা নিয়ে ঢাকা শহর চক্কর দেয়।। আর রাতে বাসায় যাওয়ার সময় কনার জন্যে আইস ক্রিম আর সাইবার জন্যে কিছু না কিছু নিয়েই যায়।।প্রতি শুক্রবার তিন জন মিলে ঘুরতে যায়।। কখনো জাদুঘর কখনো চিড়িয়াখানা,নভো থিয়েটার আবার কখনো বুড়িগংগা তে নৌকায় চড়ে বেরায়।।সাইবার নৌকা খুব পছন্দ।।

রাজন সাইবার স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনেক্ষন ধরে আর পায়চারি করছে, টেনশন হচ্ছে বোকা বাবার, মেয়ে বের হয় না কেন??!! কনা কল দিয়ে বলেছিল আজকে দেরি হবে হাসপাতালে কাজ আছে বেশী, রাজন যেন সাইবা কে নিয়ে যায় স্কুল থেকে ।। সাইবাকে অনেক্ষন অপেক্ষা করার পর যখন দেখলো, রাজন এর মনে হলো কলিজায় পানি আসলো।। মেয়ে কে কোলে নিয়ে বলল, "এতক্ষন কি করলেন আম্মু?" সাইবার মন খারাপ।।সে উত্তর দিলো "আব্বু আর বলো না, অপুর মা অসুস্থ অপুকে টিফিন দিতে পারে নাই, তাই আমি আমার টিফিন হাফ খেয়ে বাকিটা অপু কে বক্স সহ দিয়েছি।। ছুটির পরে অপু কে এতক্ষন খুজতে খুজতে দেরি হয়ে গেলো" ।। রাজন আরেকটা বক্স কিনে দিবে বলে মেয়ে কে শান্ত করলো।।"মেয়েটা মায়ের মত হয়েছে খালি মানুষের কথা ভাবতে থাকে" মনে মনে বলল রাজন।।চোখের কোনায় হালকা পানি জমে গেলো রাজনের।। বাসায় নিয়ে পাশের বাসায় সাইবা কে দিয়ে রাজন আবার কাজে বেরিয়ে পড়লো।।

কনা হাসপাতালের ভেজাল সেরে বাসায় ফিরে দেখে পাশের বাসায় তালা দেওয়া।। মন টা কেমন জানি করে উঠলো কনার।।পাশের বাসার সামিনা কে কল দিয়ে পাচ্ছে না।। কয়েকটা বাসায় সাইবা কে খুজে দেখলো পেলো না।। হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসলো কনার।। রাজন আসলো ২০মিনিটের ভিতর।। আসে পাশে সব খুজে ফেললো দুইজন।। কনা রাজনের দিকে চেয়ে কান্নায় ভেংগে পড়ল।। রাজন মনের ভিতর উথাল পাথাল হয়ে গেলেও শক্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।।

পুলিশ এসে সব নোট করে চলে গেলো।। রাজন তার যত সিএনজি চালক বন্ধু আছে সবাই কে ডেকে ছবি দিয়ে সাইবাকে খুজে বের করতে সাহায্য চাইলো।। এর ভিতর সামিনা এসে পড়লো।। সামিনা কে দেখে কনা সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়ে।। "আমার মেয়ে কই?" সামিনা মাথা নিচু করে বলল " সাইবা বাইরে খেলছিল।। আমার শাশুড়ী এসেছে হুট করে, আমি সাইবা কে খেলা শেষ হলে পাসের বাসায় অপেক্ষা করতে বলে গাবতলী থেকে আমার শাশুড়ী কে আনতে গিয়েছি।। পাশের বাসায় বলে গিয়েছি সাইবার দিকে খেয়াল রাখতে তুমি না আসা পর্যন্ত।।

আজকে এক বছর সাইবা নিখোঁজ।। কনা ১মাস ধরে আবার হাসপাতালে ডিউটি করে শুরু করেছে।। রাজন কনা কে হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে তার যাত্রা শুরু করলো।। ফায়েদাবাদ রেল লাইন এর পাশে এক যাত্রী কে নামায়ে দিয়ে রাজন আবার রওনা হলো একটু সামনে যেতেই অনেক জোরে ব্রেক করলো ,এক অন্যমনস্ক যুবক গাড়ির সামনে এসে পড়ল।

ত্রিভুজ

সুমনের কাল নারায়ণগঞ্জ যেতে হবে, ভাবলো বোনের সাথে দেখা হয় না অনেকদিন। গিয়ে দেখাও করে আসলো আর কিছু টাকও ধার করা যাবে।। সুমন বোনের বাসা থেকে বের হয়ে দেখলো রাজন রাস্তায় পড়ে আছে মার খেয়ে।। রাজনের কপাল, চোখ আর চোয়াল ফেটে রক্ত পড়ছে।।তাড়াতাড়ি রাজন কে তুলে তার পকেট থেকে ফোন বের করে ডায়াল লিস্টে থেকে বউ (কনার) নাম্বারে কল দিলো।।

কনা হাসপাতালের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।। রাজন কে তাড়াতাড়ি উপরে নিয়ে গেলো সুমন আর কনা।। রাজনের অবস্থা ভালো না,প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে।। আইসিইউ তে ঢুকানো হলো রাজন কে।। কনার অবস্থা দেখে সুমন ভাবলো এই মুহুর্তে চলে যাওয়া উচিত হবে না,অপেক্ষা করলো অনেক্ষন।। কনা সবসময় এমন রোগী মাঝে মাঝে এর থেকেও বাজে অবস্থায় রোগী দেখে অভ্যস্ত, কিন্তু কখনো ভাবে নাই রাজন কে এভাবে দেখতে হবে।। কনা সেদিন আর নার্স হয়ে নরমাল চিন্তা করতে পারছে না।।

সুমনের সকালে ইন্টারভিউ আছে দেখে অনেক্ষন অপেক্ষা করে চলে গেলো, ভাবলো পরদিন এসে দেখা করে যাবে।। কনা কে কাল আবার আসবে বলে সে নিচে নেমে গেলো।।

রাজন নিচে টাকা জমা দিচ্ছে আর কতৃপক্ষকে রিকোয়েসট করছে বাকি টাকা কাল অপারেশন শেষ হলেই দিয়ে দিবে, সুমন কাউন্টারে এত আওয়াজ দেখে কি মনে করে সেদিকে তাকালো।। রাজনের চেহারার দিকে তাকিয়ে সুমনের খুব মায়া লাগলো।। কিন্তু সে কিইবা করবে, হতাশ হয়ে বেরিয়ে পড়লো।।

সকাল ১০টা।।। রাজনকে এখন আইসোলেশনে রাখা হয়েছে, কনা বাইরে বসে আছে।। তার পাশে সুমনের ফোন বিক্রি করে এসে হাবিব বসে আছে।। ডাক্তার বেরিয়ে বললো রাজনের রক্ত লাগবে, কনা কে বললো ও নেগেটিভ রক্ত ব্যাবস্থা করতে।।হাবিব মনে মনে ভাবছিল যে দুইটা খারাপ কাজ এই দুই দিনে সে করেছে আল্লাহ কখনো তাকে মাফ করবে না।।হাবিব দের বস্তি তে একটি এনজিও এসে সবার রক্ত পরীক্ষা করেছিল গত বছর আর একটি করে কার্ড দিয়েছিল ব্লাড গ্রুপ লিখে দেওয়া।। হাবিব কনা কে জিগ্যেস করলো কার্ডটি বের করে, "দেখেন তো এইটা কিনা"।। কনা বললো, " হ্যাঁ।। আপনি দিতে পারবেন?"।। হাবিব ভাবলো এইটা করে যদি উপকার হয় উনার তাহলে তার অনুশোচনা একটু হলেও কমবে।।

রাজনের কপালে, চোখে, গালে ব্যান্ডেজ।। হাবিব পাশে শুয়ে রক্ত দিচ্ছে, তার ধারণাও নেই যাকে সে রক্ত দিচ্ছে তার এই অবস্থার জন্যে সেই দায়ি।। রাজন কে একটু আগে জানতে পেরেছে তার মায়ের অবস্থা এখন ভালো।। আর পাশের লোকটিকে রক্ত দিয়ে তার অনেক্ষানি ভার নেমে গেছে মাথা থেকে, রক্ত দিয়ে তাকে কিছুক্ষন শুয়ে থাকতে বললো।। হাবিব এর অনেক ঘুম পাচ্ছে, মনে হচ্ছে অনেকদিন সে ঘুমায় না।।

26 upvotes $13.16

Replies (2)

Review before signing

Posting as . Signing with . Keychain permission: Posting. Hive Keychain will ask you to approve this action next.


  
Technical details

Operation fingerprint: