4th Street Bar Hive-Bar

Hive-Bar Powered by Hive beta-fdb5b5b

Community post

সার্বিয়াকে নকআউট করে ব্রাজিল নকআউটে

আগের ম্যাচে জার্মানি বিদায় নেওয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের শিঁরদাড়া বেয়ে ভয়ের চোরাস্রোত নেমে গিয়েছিল। সার্বিয়ার বিপক্ষে হারলেই যে সব শেষ! না, তেমন কিছুই ঘটেনি। সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ঠিকই উঠে গেছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে।

e5f346432724c8b55a96e10278bc551e-5b33eb4715518.jpg

আগের দুটি ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌরভ সেভাবে মেলেনি। কোস্টারিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের শেষ দিকে তাও কিছুটা মিলেছে। সেই ইঙ্গিত থেকেই বোধ হয় ব্রাজিল কোচ তিতে অপরিবর্তিত একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন। প্রথমার্ধেই চিরাচরিত ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন কুতিনহো-পাউলিনহোরা। দ্বিতীয়ার্ধে যেন তাঁরা আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠেছে! প্রথমার্ধে ও দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল হলেও নেইমারদের খেলায় ব্রাজিল ভক্তদের পয়সা উশুল হয়েছে শেষের অর্ধে।
তবে প্রথমার্ধের ৫ মিনিটের মধ্যে এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা শুরু করেছিল ব্রাজিল। এ সময়ের মধ্যেই দুবার সার্বিয়ান রক্ষণভাগে হানা দেয় তাঁরা। গ্যাব্রিয়েল জেসুস সুযোগ নষ্ট না করলে ব্রাজিল তখনই এগিয়ে যেতে পারত। সেই হতাশা কেটেছে ফিলিপ কুতিনহো-পাউলিনহোর যৌথ প্রযোজনায়। ৩৬ মিনিটে সার্বিয়ান রক্ষণের ডান প্রান্তে কিছুটা ফাঁক দেখতে পেয়ে কুতিনহো যে পাসটি দিলেন সেটি নিশ্চিতভাবেই এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সেরা পাস।

মাঝমাঠে কুতিনহোর হাবভাব দেখেই দৌড় শুরু করেছিলেন পাউলিনহো। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা কুতিনহোও যেন ‘টেলিপ্যাথিক’ সংযোগে বুঝে নিলেন বলটা ঠিক কোথায় ফেলতে হবে। তাঁর ডিফেন্স চেরা মাপা পাস গিয়ে পড়েছে একেবারে পাউলিনহোর সামনে। এগিয়ে আসা সার্বিয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো টোকায় বলটা জালে পাঠিয়ে দেন পাউলিনহো।

নেইমার আগের দুই ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সেভাবে সুবিচার করতে পারেননি। কোস্টারিকার বিপক্ষে গোল করলেও বোঝা গিয়েছিল পূর্ণ ফিটনেসটা এখনো পুরোপুরি ফিরে পাননি ব্রাজিলের এই সেরা খেলোয়াড়। তবে সার্বিয়ার বিপক্ষে দু-একবার পুরোনো ঝলক দেখা গেছে তাঁর পায়ে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকবার গোলের সুবাস পেয়েছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই ফুটবলার।

গোল না পেলেও ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলে কিন্তু নেইমারের পরোক্ষ অবদান রয়েছে। ৬৮ মিনিটে তাঁর কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন থিয়াগো সিলভা। এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে সিলভার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছেন নেইমার। এই গোলটা যেন মিলিয়ে দিয়েছে দুই সতীর্থকে। তবে ব্রাজিলের আক্ষেপ হয়ে থাকবে ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় মার্সেলোর চোট। জল টলমল চোখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই লেফট ব্যাক। তাঁর বদলে মাঠে নামেন ফিলিপে লুইস।

সার্বিয়া প্রথমার্ধে সেভাবে আক্রমণে উঠতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তাঁরা ব্রাজিলকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে ৬০ থেকে ৬৫ মিনিটের মধ্যে তাঁরা চারবার হানা দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগে। কিন্তু কাসেমিরো-মিরান্ডা-সিলভাদের গড়া রক্ষণে ফাটল ধরেনি। ম্যাচের বাকি সময়ে ব্রাজিলই আক্রমণ করেছে বেশি। ৮০ মিনিটে কুতিনহোকে তুলে রেনাতো অগাস্তোকে মাঠে নামান তিতে। নির্ধারিত সময়ে শেষ ১০ মিনিটে কমপক্ষে তিনটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। এর মধ্যে ৮৩ ও ৮৬ মিনিটে দুটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন নেইমার। সার্বিয়ান গোলরক্ষককে কায়দামতো পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

তবে নেইমার যে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন তার প্রমাণ মিলেছে এই ম্যাচে। কুতিনহোর সঙ্গে বেশ কবার ওয়ান-টু খেলে সার্বিয়ান রক্ষণে কাঁপুনি ধরিয়েছিলেন। শুধু গোলটাই পাননি। দুই অর্ধ মিলিয়ে সার্বিয়ার গোলপোস্টে ১৪টি শট নিয়েছে ব্রাজিল। তবে এর মধ্যে নিশানায় ছিল মাত্র ৬টি শট। তার জবাবে সার্বিয়া ১০টি শট নিলেও ব্রাজিলের গোলপোস্ট বরাবর ছিল মাত্র ২টি শট। এ দুটি শটই তাঁরা নিয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।

এই হারে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিল সার্বিয়া। ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল ব্রাজিল। ৩ ম্যাচ শেষে তাঁদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। ৫ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের রানার্সআপ দল সুইজারল্যান্ড। ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করা সার্বিয়া ও ১ পয়েন্ট পাওয়া কোস্টারিকা বিদায় নিল গ্রুপপর্ব থেকে।

১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে এ নিয়ে টানা ১৩বার গ্রুপপর্ব টপকে নকআউট পর্বে উঠল লাতিন দলটি। এ নিয়ে শেষ ১০টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বেই তাঁরা চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে উঠল নকআউট পর্বে। এবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তিতের শিষ্যদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। ২ জুলাই সামারায় বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিতের শিষ্যরা ছন্দে ফেরার আভাস দেওয়ায় ব্রাজিল সমর্থকেরা কিন্তু এখনই কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে পাচ্ছেন। মস্কোয় আজ ‘সেলেসাও’ সমর্থকদের জয়োল্লাসে স্লোগান ছিল, ‘বাই বাই মেক্সিকো!’

2 upvotes $0.00

Replies (3)

Review before signing

Posting as . Signing with . Keychain permission: Posting. Hive Keychain will ask you to approve this action next.


  
Technical details

Operation fingerprint: